গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে নিয়মিত পাঠচক্র ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠান ‘সংশপ্তক সাহিত্য আড্ডা’। গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ ও সমকালীন নানা প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থী দিগন্ত বিশ্বাস তাঁর স্বরচিত কবিতা ‘রোগ’ আবৃত্তি করে আড্ডার সূচনা করেন। এরপর পবিত্র আশুরা ও ১০ মহররমের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ধর্মীয় তাৎপর্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন মোঃ রমজান মিয়া। তিনি তাঁর আলোচনার সমর্থনে বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ইবনে কাসিরের ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ বইটিকে রেফারেন্স হিসেবে তুলে ধরেন।
মূল আলোচনা ‘মফস্বলি বৃত্তান্ত’: আড্ডার মূল পর্বে দেবেশ রায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘মফস্বলি বৃত্তান্ত’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মো. জুবায়ের। ঔপন্যাসিক দেবেশ রায়ের সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি, সমাজ-প্রান্তিক ও পীড়িত মানুষের জীবনসংগ্রাম যেভাবে এই উপন্যাসে ফুটে উঠেছে, তার বিভিন্ন নান্দনিক দিক সভার সামনে উঠে আসে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের মানুষের বৈচিত্র্যময় ভাষাব্যবহার, জীবন বৃত্তি, ম্যাজিক রিয়েলিজম এবং সর্বোপরি মানবজীবনের চরম অসহায়ত্ব ও আশার সমন্বয় নিয়ে প্রাঞ্জল আলোচনা করা হয়।
উন্মুক্ত আলোচনা ও বিশ্বসাহিত্য: পরবর্তী উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বিশ্বখ্যাত পাকিস্তানি লেখিকা উমেরা আহমেদের জনপ্রিয় উর্দু উপন্যাস ‘পীরে কামিল’ নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিন্তু আকর্ষণীয় আলোচনা করা হয়। এরপর সমকালীন তাত্ত্বিক সাহিত্যের অন্যতম বহুল আলোচিত প্রবন্ধ গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের ‘ক্যান সাবঅল্টার্ন স্পিক?’ (Can the Subaltern Speak?) নিয়ে এক গভীর ও প্রাসঙ্গিক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
সেরা বক্তাকে ‘ইস্পাত’ উপহার ও পরবর্তী পরিকল্পনা:
আড্ডার নিয়ম অনুযায়ী সভাপতির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের সেরা বক্তাকে নিকোলাই অস্ত্রভস্কির বিখ্যাত রুশ কালজয়ী উপন্যাস ‘ইস্পাত’ উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ অংশে আয়োজকদের পক্ষ থেকে গোবিপ্রবি সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক কাউছার আহমেদ প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ আশির আহমেদের ‘জাপান কাহিনি’ সিরিজের বইগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেন। একই সাথে উপস্থিত সবার সর্বসম্মতিক্রমে পরবর্তী সাহিত্য আড্ডায় প্রথাবিরোধী লেখক আহমদ ছফার একটি নির্দিষ্ট গ্রন্থকে কেন্দ্র করে পাঠ ও মুক্ত আলোচনার আয়োজন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আড্ডায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা ক্যাম্পাসে সুস্থ পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তির (Critical Thinking) বিকাশ এবং সামগ্রিক সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করতে অনন্য ভূমিকা রাখে। গোবিপ্রবি সাহিত্য সংসদ জানায়, ভবিষ্যতেও নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা, পাঠচক্র ও বিভিন্ন মননশীল আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও মননশীল বিকাশে কাজ করে যাওয়ার এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।