সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে তরুণীর ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে অনলাইনে প্রচার এবং সামাজিক ও আর্থিক হয়রানি করার অভিযোগে এক সাবেক সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. সারোয়ার হোসেন খান (৪০)। সে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের ছেলে। সেনাবাহিনী থেকে চাকরি ছাড়ার পর সে গাজীপুরের একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত ছিল এবং সেখানেই বসবাস করত।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে সিআইডির একটি বিশেষ টিম সারোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে মোহনগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে গতকাল ২৬ জুন (শুক্রবার) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গ্রেপ্তার
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের (২০২৫ সালের) ১৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী তরুণী মোহনগঞ্জ থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। একই সঙ্গে তিনি সাইবার সুরক্ষাবিষয়ক সেলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ সহায়তায় পুলিশের তদন্ত দল অনুসন্ধান চালিয়ে অবশেষে অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের আকুতি
ভুক্তভোগী তরুণী অভিযোগ করে জানান, তার মূল ছবি ও ভিডিও অসৎ উদ্দেশ্যে এডিট করে অশ্লীলভাবে বিকৃত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিয়ে তাকে নিয়মিত মানসিক ও সামাজিক হেনস্তা করে আসছিল সারোয়ার। এতে করে তিনি ও তার পরিবার চরম সামাজিক অপমান এবং তীব্র মানসিক ভোগান্তির শিকার হয়ে একপর্যায়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।
সফল অভিযানের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আইন ও প্রশাসনের নিকট গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত সারোয়ারের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।