কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের লোহার দানবাক্সগুলো দীর্ঘ ৬ মাস পর আবারও খোলা হয়েছে। এবার রেকর্ডসংখ্যক ৪৩টি প্লাস্টিকের বস্তাভর্তি টাকা পাওয়া গেছে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া প্রাথমিক ৩ ঘণ্টার গণনায় ইতোমধ্যেই প্রায় ১০ কোটি টাকা গোনা শেষ হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ টাকা গণনা শেষ না হওয়ায় চূড়ান্ত হিসাব জানতে আজ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে মসজিদ পরিচালনা কমিটি।
আজ শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খানের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।
৪ শতাধিক মানুষের বিশাল টিম: দানবাক্স থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ টাকা বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। সেখানে মেঝেতে ঢেলে সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় টাকা গোনার মহাযজ্ঞ। এই গণনা কাজে অংশ নিয়েছেন রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদের অধীনস্থ মাদ্রাসার প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ও ১০ জন শিক্ষকসহ মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা।
টাকার পাশাপাশি সোনা-রূপা ও চিঠি: নগদ দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রূপার অলংকার এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এছাড়া বরাবরের মতোই মিলেছে ভক্তদের আবেগী সব চিঠি ও চিরকুট। এবার একটি চিঠিতে ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের স্বপ্ন নিয়ে এক ফুটবলপ্রেমীর করা বিশেষ দোয়া এবং অন্য আরেকটি চিঠিতে ওসমান হাদি হত্যার বিচারের আকুতি উপস্থিত সবার দৃষ্টি কেড়েছে।
টাকা ব্যাংকে সংরক্ষণের নিয়ম:
রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারেছী জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটি টাকা গোনা সম্পন্ন হয়েছে। পুরো অর্থ গণনা শেষ হলে সন্ধ্যার পর চূড়ান্ত পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “মসজিদ ও তৎসংলগ্ন ইসলামিক কমপ্লেক্সের উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয় মেটানোর পর বাকি অবশিষ্ট অর্থ রূপালী ব্যাংকে জমা রাখা হয়। বর্তমানে সরাসরি দানের ১১৪ কোটি টাকা এবং অনলাইন দানের ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা ব্যাংকে সংরক্ষিত রয়েছে। দান হিসেবে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারগুলো জেলা প্রশাসনের নিরাপদ ট্রেজারিতে জমা থাকে।”
উল্লেখ্য, সাধারণত তিন মাস পর পর দানবাক্স খোলার রেওয়াজ থাকলেও বিভিন্ন কারণে এবার দীর্ঘ ৬ মাস পর এই বাক্সগুলো খোলা হয়। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খুলে রেকর্ড ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ Patch ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এবার দীর্ঘ বিরতির কারণে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।