পারিবারিক কলহ আর ২২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিপূরণ না করায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দুই সন্তানের জননী আয়শা সিদ্দিকা জ্যোতি (৩২) নামের এক গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে তাঁর শিক্ষক স্বামীর বিরুদ্ধে।
গত বুধবার দুপুরে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের পাকুড়িয়া শরীফ এলাকা থেকে নিহতের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত জ্যোতি ওই গ্রামের লালচাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম লেবুর স্ত্রী এবং অবসরপ্রাপ্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হলেও দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই আর্থিক দাবির মুখে পড়তে হয় জ্যোতিকে।
নিহতের পরিবার সূত্রের ভাষ্যমতে, বিয়ের পর থেকেই জ্যোতির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। প্রথমে একটি মোটরসাইকেলের দাবি জানালে জ্যোতির বাবা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে একটি ‘পালসার’ বাইক কিনে দেন। কিন্তু তা ‘পছন্দ হয়নি’ অজুহাতে ফিরিয়ে দেন স্বামী লেবু। পরবর্তীতে দুই বছর আগে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হলেও বন্ধ হয়নি নিপীড়ন। সম্প্রতি জ্যোতির বাবা চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর রংপুর শহরে জমি কেনার অজুহাতে তাঁর কাছে ২২ লাখ টাকা দাবি করেন লেবু। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ এনে দিতে না পারায় গত দেড় মাস ধরে জ্যোতির ওপর নির্যাতনের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
নিহতের ছোট ভাই জাহিদুলের দাবি, “আমার বোন অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিল, সে কখনোই নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার মতো মেয়ে নয়। ২২ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।”
ঘটনার দিন সকালে লেবু নিজেই প্রতিবেশীদের জানান তাঁর স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে স্থানীয়রা এসে মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষক লেবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান, যা স্থানীয়দের মনে হত্যা সন্দেহে নতুন রূপ দিয়েছে।
গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানান, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।