সারা দেশে হঠাৎ ধেয়ে আসা কালবৈশাখী ঝড় ও আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাতের সময় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দেশের ছয়টি জেলায় কলেজ শিক্ষক ও নারীসহ মোট ১১ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে।
সংশ্লিষ্ট জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায়। এ ছাড়া ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় ২ জন এবং নীলফামারী, পঞ্চগড়, চুয়াডাঙ্গা ও বগুড়ায় ১ জন করে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম কুড়াতে ও মাঠে গিয়ে ৫ প্রাণহানি:
বিকেলে বৃষ্টির সময় পৃথক বজ্রপাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় তিন জন, সদর উপজেলায় একজন এবং নাচোল উপজেলায় একজনসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে তিন জনই নারী।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, উপজেলার চকরেণ্দ্র গ্রামের মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ির সাদিয়া খাতুন এবং মোবারকপুরের মো. মেসবাউল নামের তিন জন বাড়ির পাশের বাগানে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন। এ ছাড়া সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নে মাঠে গরু আনতে গিয়ে আব্দুল্লাহ নামের এক তরুণ এবং নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামে মাঠে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে সুমিয়ারা বেগম নামের এক নারী বজ্রপাতে মারা যান।
ময়মনসিংহে কলেজ শিক্ষক ও যুবকের মৃত্যু:
ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় বজ্রপাতে গাবতলী ডিগ্রি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এএসএম খালেকুল আজাদ ও সিয়াম নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গফরগাঁও উপজেলার মধ্য লামকাইন গ্রামে সিয়াম নামের ওই যুবক বাড়ির আঙিনায় ধানের কাজ করার সময় এবং মুক্তাগাছা উপজেলার রঘুনাথপুর রৌয়ারচর বাজারে একটি মসজিদের নির্মাণকাজ তদারকি করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হন অধ্যাপক খালেকুল আজাদ।
মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সায়েম তানভীর জানান, অধ্যাপক খালেকুল আজাদ বৃষ্টির সময় আমগাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
অন্য চার জেলায় ৪ জনের মৃত্যু, আহত ৩:
দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের অন্য চার জেলা থেকেও বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে:
চুয়াডাঙ্গা: আলমডাঙ্গা উপজেলার নান্দবার গ্রামে বাড়ির দ্বিতীয় তলার ছাদে বসে থাকার সময় বজ্রপাতে নাফিজ আহমেদ শান্ত নামের এক যুবকের মৃত্যু হয় এবং তাঁর চাচাতো ভাই নাহিদ গুরুতর আহত হন।
বগুড়া: আদমদীঘি উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে বিকেলে মরিচ ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রাব্বি হোসেন নামের এক কিশোর মারা যায়। তার মা মনিকা বেগম গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া।
নীলফামারী: ডিমলা উপজেলার নিজপাড়া এলাকায় সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে বজ্রপাতে আলম ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং সেরিনা বেগম নামের এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
পঞ্চগড়: সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নে ফসলি জমি থেকে ট্রাক্টরে করে ভুট্টা পরিবহনের সময় শাহাদাত হোসেন নামের এক তরুণ বেলচা আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান।