শিরোনাম দেখে হয়তো অনেকেই একটু অবাক হয়ে ভাবছেন—এত বিশাল সমুদ্র, সেখান থেকে মাত্র এক বালতি পানি তুলে নিলে কি সত্যিই কোনো পরিবর্তন হবে? আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এতে কিছুই যায়-আসে না। তবে বিজ্ঞানের নিখুঁত হিসাবে এর উত্তর কিন্তু বেশ চমকপ্রদ। চলুন দেখে নেওয়া যাক, সমুদ্র থেকে এক বালতি পানি তুললে আসলে কী ঘটে।
বিষয়টি সহজে বোঝার জন্য প্রথমে একটি সাধারণ উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন, আপনি একটি গ্লাসে একদম উপচে পড়ার মতো পানি ভরলেন। এরপর সেই গ্লাস থেকে এক চা-চামচ পানি তুলে নিলেন। গ্লাসের পানির স্তর কিছুটা কমবে ঠিকই, কিন্তু সেই কমে যাওয়াটা খালি চোখে ধরা পড়বে না। একই কাজ যদি পানিপূর্ণ কোনো বাথটাবে করা হয়, তবে পানির স্তরের পরিবর্তন আরও অদৃশ্য হয়ে যাবে। ঠিক একই ঘটনা ঘটে বিশাল সমুদ্রের ক্ষেত্রেও। সমুদ্র থেকে এক বালতি পানি তুলে নিলে পানি কমে ঠিকই, কিন্তু সেই কমে যাওয়াটা এতটাই সামান্য যে তা কোনোভাবেই টের পাওয়া সম্ভব নয়।
কতটা কমে সমুদ্রের পানি?
সাধারণত একটি বালতিতে ১০ লিটার পানি ধরে। পৃথিবীর সব সমুদ্র মিলিয়ে যে পরিমাণ পানি আছে, তার সবটা যদি এই ১০ লিটারের বালতিতে ভরতে চাওয়া হয়, তবে প্রায় ১৩৭ মিলিয়ন মিলিয়ন মিলিয়ন (১৩,৭০,০০,০০,০০,০০,০০,০০,০০০) সংখ্যক বালতির প্রয়োজন হবে!
এই বিশাল জলরাশি থেকে যদি মাত্র এক বালতি পানি তুলে নেওয়া হয়, তবে গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী সমুদ্রের পানির স্তর কমবে মাত্র ০.০০০০০০০০০০২৭৭ মিলিমিটার ( 2.77 \times 10^{-11} মিলিমিটার)।
মিলিমিটার পরিমাপটি নিজেই কতটা ছোট তা আমরা জানি। আর এই সংখ্যাটি তার চেয়েও কোটি কোটি গুণ ছোট—যা একটি ক্ষুদ্র পরমাণুর আকারের চেয়েও অনেক কম!
তাই তাত্ত্বিকভাবে সমুদ্রের পানি কমলেও, বাস্তবে এই পরিবর্তন এতটাই অতি-ক্ষুদ্র যে পৃথিবীর কোনো আধুনিক বা সংবেদনশীল বৈজ্ঞানিক যন্ত্র দিয়েও এই সামান্য পার্থক্য মেপে বের করা সম্ভব নয়।
সংকলন: শিক্ষার্থী, কৃষিবিজ্ঞান বিভাগ, হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্স অনুষদ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
সূত্র: দ্য কনভারসেশন।