রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাঁওতাল (আদিবাসী) সম্প্রদায়ের কয়েকটি শিশুকে ভর্তি না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার রায়ঘাটি গ্রামের ভুক্তভোগী সাঁওতাল অভিভাবকরা। তাঁরা এই বৈষম্যমূলক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সব শিশুর জন্য সমানভাবে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সন্তানদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে তাঁরা একাধিকবার বিদ্যালয়ে গেলেও বিভিন্ন অজুহাতে ও অবহেলার মাধ্যমে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে কোমলমতি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হওয়াই এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
তবে আদিবাসী শিশুদের ভর্তি না নেওয়ার এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কেশরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে বর্তমানে দুইজন আদিবাসী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। আদিবাসী বা সাঁওতাল হওয়ায় কাউকে ভর্তি না দেওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়।”
ঘটনার বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি এর আগে তাঁদের নজরে আসেনি। স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে যদি কোনো প্রকার বৈষম্য বা অবহেলার সত্যতা পাওয়া যায়, তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে কেশরহাট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার। ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো শিশুকে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রের নীতির পরিপন্থী। এ ধরনের জাতিগত বৈষম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে অবিলম্বে সাঁওতাল শিশুদের শিক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হোক। দেশের আইন অনুযায়ী সব শিশুরই স্কুলে পড়ার এবং সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।