খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় এক খামারির মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে আনুমানিক দুই লক্ষ টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘের দখল ও দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে প্রতিপক্ষ এই অমানবিক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর। এ ঘটনায় দিঘলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ঘের ব্যবসায়ী শেখ ইয়াজুল ইসলাম।
থানা অভিযোগ ও ঘটনার বিবরণ:
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার নন্দন প্রতাপ গ্রামের বাসিন্দা শেখ ইয়াজুল ইসলামের একটি মাছের ঘের দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিল স্থানীয় আজিবর শেখ নামের এক ব্যক্তি। ঘের ধরে রাখার বিনিময়ে সে ইয়াজুলের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে এবং বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
ভুক্তভোগী ইয়াজুল ইসলাম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, গত রবিবার (২৮ জুন) আজিবর শেখ অজ্ঞাত আরও তিন সহযোগীকে সাথে নিয়ে ইয়াজুলের মাছের ঘেরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘেরে মাছ ছাড়ার অজুহাতে বিষাক্ত কীটনাশক (বিষ) প্রয়োগ করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরের দিন ভেসে উঠল মরা মাছ:
বিষ প্রয়োগের পরের দিন আজ সোমবার (২৯ জুন) সকালে শেখ ইয়াজুল ইসলাম ঘেরে গিয়ে দেখেন রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির শত শত মাছ মরে পানির ওপরে ভেসে উঠেছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই লক্ষ টাকা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ইয়াজুল ইসলাম বলেন, “আজিবর শেখ দীর্ঘদিন ধরে আমার ঘের দখলের পাঁয়তারা করছিল। আমি চাঁদা না দেওয়ায় সে বিষ দিয়ে আমার সব মাছ মেরে ফেলেছে। আমার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, আমি এই জঘন্য অপরাধের সঠিক বিচার চাই।”
পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দিঘলিয়া থানার কামারগাতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তথা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, “শেখ ইয়াজুল নামের এক ব্যক্তির মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগের একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”