খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে দিঘলিয়া ইউনিয়নের এমএ মজিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মজিদ কলেজ মাঠের ঠিক বিপরীতে গড়ে উঠেছে দিঘলিয়া কাবাডি একাডেমি। গুটি গুটি পায়ে পথচলার দুই বছর পূর্ণ করে এরই মধ্যে শিশু-কিশোরদের কাবাডি প্রশিক্ষণের একটি পরিচিত কেন্দ্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রায় দুই বছর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশেম ভাই ও আব্দুস সালাম ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে অর্ধশতাধিক শিশু-কিশোরকে নিয়ে একাডেমিটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিদিন বিকেলে সেখানে বসে শিশু-কিশোরদের মিলনমেলা। কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে।
স্কুল-কলেজ, দিঘলিয়া উপজেলা এবং খুলনা জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে ইতোমধ্যে একাডেমির খেলোয়াড়রা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। নতুন করে শুরু হয়েছে বালিকা কাবাডি দলও। ফলে ভবিষ্যতে এখান থেকে ছেলে ও মেয়ে উভয় বিভাগের প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে সাফল্যের বিপরীতে একাডেমিটির রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। খেলোয়াড়দের জন্য নেই পর্যাপ্ত ক্রীড়া সরঞ্জাম, ভালো মানের জার্সি বা পোশাক এবং পর্যাপ্ত ড্রেসিং রুম। বর্তমানে একটি ছোট কক্ষেই কাবাডির সরঞ্জাম, অন্যান্য সামগ্রী, খেলোয়াড়দের পোশাক, খাতাপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখা হয়। একই জায়গাকে খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুম হিসেবেও ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে বালিকা দল চালু হওয়ার পর মেয়েদের জন্য পৃথক ও নিরাপদ ড্রেসিং রুমের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। সম্প্রতি খুলনার সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির পরিদর্শনের সময় বিষয়টি সামনে আসে এবং একটি পৃথক ড্রেসিং রুম নির্মাণের অনুমতির কথাও জানা গেছে। পাশেই জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
একাডেমির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উপজেলা পরিষদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সমাজসেবী ও এনজিও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ক্রীড়া সরঞ্জামের সংকট অনেকটাই দূর করা সম্ভব।
এদিকে প্রশিক্ষণ চলাকালে শিশু-কিশোরদের জন্য প্রতিদিন ঠান্ডা পানি, শরবতসহ সামান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার খরচও অনেক সময় প্রশিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থ থেকেই বহন করতে হচ্ছে। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কোচ ও মেন্টররা নিজেদের সময়, শ্রম, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে খেলোয়াড় তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
একাডেমির সঙ্গে যুক্তরা জানান, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা পেলে দিঘলিয়া কাবাডি একাডেমি ভবিষ্যতে উপজেলা ও খুলনা জেলার জন্য জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দিঘলিয়া কাবাডি একাডেমির প্রশিক্ষক, কোচ, মেন্টর ও খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের বিত্তবান ও ক্রীড়াপ্রেমী ব্যক্তিদের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিশু-কিশোরদের মাঠমুখী করে মাদক ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই দিঘলিয়া কাবাডি একাডেমির মতো উদ্যোগকে সহযোগিতা করা গেলে শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান নয়, তৈরি হতে পারে একটি সুস্থ ও সম্ভাবনাময় প্রজন্ম।