ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সদর বাজারের ব্যস্ততম লঞ্চঘাট ও স্পিডবোট এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় দুটি কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাতে ঘটা এই চাঞ্চল্যকর সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত এক কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে নবীনগর সদর বাজারের ব্যস্ততম লঞ্চঘাট এলাকা থেকে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে স্পিডবোট ঘাট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তুচ্ছ কোনো বিষয় বা পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে জল্লা গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে মিরাফকে (১৮) অতর্কিত ছুরিকাঘাত করা হয়।
এর জেরে মুহূর্তের মধ্যে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো বাজার ও ঘাট এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে হুলস্থুল পড়ে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে ছুরিকাঘাতে মারাত্মক জখম হওয়া মিরাফের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়।
এই সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত চার কিশোর হলেন—
মিরাফ (১৮): পিতা- রিপন মিয়া, সাং- জল্লা (গুরুতর আহত ও ছুরিকাঘাতে অবস্থা আশঙ্কাজনক)।
আজিজ (১৮): পিতা- জুরু মিয়া, সাং- মাঝিকাড়া (০৫ নং ওয়ার্ড)।
ইসমাইল (১৯): পিতা- আমির হোসেন, মাতা- নিপা বেগম, সাং- ভোলাচং, চৌধুরীপাড়া (০৯ নং ওয়ার্ড)।
সাইফ (১৭): পিতা- শাহ জালাল, মাতা- সুমি আহমেদ, সাং- নবীনগর পশ্চিমপাড়া (০২ নং ওয়ার্ড)।
আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই হামলায় সরাসরি জড়িত অভিযুক্ত কিশোররা হলো—
হামিম (১৯): পিতা- মৃত গিয়াস, মাতা- হ্যাপি আক্তার, সাং- মাঝিকাড়া, পূর্বপাড়া (০৫ নং ওয়ার্ড)।
আরাফাত (১৯): পিতা-মাতা অজ্ঞাত, সাং- নবীনগর পশ্চিমপাড়া (বর্তমানে ঢাকায় অবস্থানরত)।
আতিক সিয়াম (১৯): পিতা- শফিকুল ইসলাম, সাং- নরসিংহপুর।
ইমন (১৯): পিতা-মাতা অজ্ঞাত, সাং- নবীনগর সরকারি কলেজ রোড।
মাহি (১৯): পিতা- অজ্ঞাত, সাং- নবীনগর পশ্চিমপাড়া (০২ নং ওয়ার্ড, নবীনগর পৌরসভা)।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।