পড়াশোনার পাশাপাশি পেঁপে চাষ শুরু করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার আলোকিত কাশিপুর যুব সংগঠনের সদস্য কুমারী বন্যা রানী রায়। পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদিত পেঁপে বাজারে বিক্রি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে চান তিনি।
২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় বন্যা রানী তার বাড়ির আঙিনায় ১০০টি হাইব্রিড পেঁপের চারা রোপণ করেন। গাছগুলো নিজ হাতে পরিচর্যা করে ফলন পাওয়া পর্যন্ত পরিশ্রম করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
পেঁপে চাষের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে উদয় অঙ্কুর সেবা সংস্থা (ইউএসএস)-এর ‘সেড ফান্ড’ থেকে এককালীন ১০ হাজার টাকা সহায়তা পেয়েছেন বন্যা রানী। আলোকিত কাশিপুর যুব সংগঠনের মাধ্যমে তিনি এ সহায়তার জন্য নির্বাচিত হন। অর্গানিক পদ্ধতিতে পেঁপে চাষের মাধ্যমে তাকে স্বাবলম্বী করে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বন্যা রানী বলেন, “আমি পেঁপে চাষ করে প্রথমে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে চাই। এরপর বাজারে বিক্রি করে পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরতে চাই। গ্রামের মেয়েরা যে পিছিয়ে নেই, সেটি কাজের মাধ্যমে দেখিয়ে দিতে চাই।”
ইউএসএসের ফুলবাড়ী প্রজেক্ট অফিসার নূরনবী বলেন, “আলোকিত কাশিপুর যুব সংগঠনের মাধ্যমে বন্যা রানী সেড ফান্ডের জন্য আবেদন করেন। তার পেঁপে চাষের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষের মাধ্যমে তিনি যেন ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
আলোকিত কাশিপুর যুব সংগঠনের সভাপতি আনিছুর রহমান বলেন, “গ্রামের মেয়েরা এখন পিছিয়ে নেই। বন্যা রানী ১০০টি হাইব্রিড পেঁপের চারা রোপণ করে তারই প্রমাণ দিয়েছে। তার এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং তার সফলতা কামনা করি।”
বন্যা রানীর মা শ্রীমতি অমিতা রানী রায় বলেন, “আমার মেয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি পেঁপে চাষ শুরু করেছে। তার এ কাজে আমি সব ধরনের সহযোগিতা ও সাহস দেব। নিজের পড়াশোনার খরচ নিজে চালাতে চায়—এতে আমি তাকে উৎসাহ দিচ্ছি।”
তিনি বন্যা রানীর এ উদ্যোগে সহযোগিতা করার জন্য আলোকিত কাশিপুর যুব সংগঠন, উদয় অঙ্কুর সেবা সংস্থা (ইউএসএস) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।