রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) কোনো সদস্য অংশ নেবেন না। আজ শুক্রবার (২২ মে) সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কালাম খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আজ কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, রামিসা হত্যা মামলায় অপরাধীদের পক্ষে ঢাকা বারের কোনো আইনজীবী আইনি লড়াইয়ে অংশ নেবেন না।’
বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই আইনজীবীদের এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি এমন শক্ত অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবী থানার মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন একটি বাসায় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস ঘটনার পর ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গত ২০ মে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। একই দিনে বিজ্ঞ আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা বারের আইনজীবীদের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।