ছোটবেলা থেকেই একটি গরুর খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল তরুণ আব্দুল কুদ্দুসের। সেই লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ২০২৪ সালে তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গরুর খামার স্থাপন করেন। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে কঠোর পরিশ্রম আর আধুনিক ব্যবস্থাপনায় তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি এখন একজন সফল খামারি ও আত্মপ্রত্যয়ী উদ্যোক্তা।
আব্দুল কুদ্দুস বর্তমানে অনার্সে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়ন করছেন। সনাতন ধারার চাকরির পেছনে অন্ধের মতো না ছুটে তিনি নিজেকে একজন স্বাধীন উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর স্পষ্ট বিশ্বাস—উচ্চশিক্ষা শেষে কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে নিজস্ব ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।
১৪টি গরু ও কর্মসংস্থান: বর্তমানে আব্দুল কুদ্দুসের খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৪টি উন্নত জাতের গরু রয়েছে। খামারটি বড় হওয়ায় নিজের পাশাপাশি তিনি আরও দুজন স্থানীয় বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন, যাঁরা এখন এই খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পরিচর্যা, সুষম খাদ্য ও আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি দিন দিন তাঁর এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
বাবার গর্বিত অভিব্যক্তি: আব্দুল কুদ্দুসের পিতা মৌজাফর রহমান আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি আর দশটা বাবার মতোই চেয়েছিলাম আমার ছেলে পড়াশোনা শেষ করে একটা ভালো চাকরি করুক। কিন্তু সে সবসময় বলত—’আমরা কেন অন্যের অধীনে কাজ করব? নিজেই কিছু একটা করব।’ নিজের সেই অনড় চিন্তা ও স্বপ্ন থেকেই সে আজ খামার গড়ে তুলেছে। আজ সে সফলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, বাবা হিসেবে আমি তার আরও বড় সাফল্য কামনা করি।”
তরুণদের জন্য অনুকরণীয় মডেল:
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পড়াশোনা ঠিক রেখে ডেইরি খামার পরিচালনা করে আব্দুল কুদ্দুস বর্তমান বেকার যুবসমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর এই সাহসী উদ্যোগ একদিকে যেমন নিজের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, অন্যদিকে এলাকার অন্য শিক্ষিত যুবকদেরও আধুনিক কৃষিতে ও উদ্যোক্তা হতে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করছে।