বাগেরহাটের মোংলায় উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের উদ্যোগে একটি বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মোংলা থানাধীন জয়মনি উচ্চ বিদ্যালয়ে এই চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে ২২১ জন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষের জরুরি স্বাস্থ্য চাহিদা মেটানোর অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে পিছিয়ে থাকা জনপদগুলোকে সেবার আওতায় নিয়ে আসাই ছিল এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রোগ নির্ণয় ও ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়।
উপকূলের স্বাস্থ্যসংকট ও কোস্ট গার্ডের মানবিক হাত: স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে এখানকার অধিকাংশ মানুষ উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন না। জয়মনি এলাকায় সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে মানসম্মত হাসপাতাল বা ওষুধের সহজলভ্যতা না থাকায় সামান্য অসুস্থতাতেও তাঁদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মোংলা সদর বা জেলা শহরে যেতে হয়। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তাঁরা বাড়ির কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে পেয়েছেন।
জনসেবামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা: চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের বিষয়ে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সূচনালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা ও জনসেবামূলক কাজে নিয়োজিত রয়েছে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্পষ্ট করেছেন যে, এই মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনটি কোস্ট গার্ডের চলমান জনসেবামূলক কর্মসূচির একটি ধারাবাহিক অংশ। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
জয়মনিতে কোস্ট গার্ডের এই উদ্যোগটি উপকূলীয় জনপদে স্বাস্থ্যসেবার অভাব পূরণে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সচেতন মহলের মতে, কেবল বিশেষ ক্যাম্পেইনের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায়ে স্থায়ী স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি, যা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদে হ্রাস করতে সক্ষম হবে।