লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এলাকায় তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারী’ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করে ধ্বংস করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
আজ শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পারভেজ খান এবং মো. মামুনুর রশিদের যৌথ নেতৃত্বে এই মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের বিবরণ:
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে একটি অসাধু চক্র অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে ড্রেজার ও বিভিন্ন উপায়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকা ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। এমন সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ দুপুরে ভোটমারী এলাকায় অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতেনাতে অবৈধ বালু উত্তোলনের সত্যতা পান ম্যাজিস্ট্রেটরা, যা স্থানীয় বাসিন্দারাও নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে উপস্থিত ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সকল অবৈধ সরঞ্জামসমূহ জব্দ করা হয় এবং তা ঘটনাস্থলেই সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস: একই অভিযান চলাকালে তিস্তা নদী এলাকায় নিষিদ্ধ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ‘চায়না দুয়ারী’ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনাকারী দল মাছের বংশ নিধনকারী ওই অবৈধ জালগুলো জব্দ করে এবং জনসম্মুখে পুড়িয়ে ভস্মীভূত করে।
প্রশাসনের হুঁশিয়ারি:
অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পারভেজ খান এবং মো. মামুনুর রশিদ জানান, তিস্তা নদী রক্ষা এবং পরিবেশের সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে জেলা প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট। অবৈধ বালু উত্তোলনকারী এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ ধ্বংসকারী নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের এমন সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ নদীপাড়ের মানুষ।