দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়া খনিজ শিল্পাঞ্চলের গুড়গুড়ি গ্রামে সরকারি রাস্তার পাশে রোপণ করা আমগাছ ভাঙার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। এক পর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ক্লাব কর্তৃপক্ষের গাছ ভাঙার অভিযোগ:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুড়গুড়ি এলাকার ‘ইয়াং স্টার ক্লাব’-এর সদস্যরা কয়েক মাস আগে সরকারি রাস্তার পাশে পরিবেশ সুরক্ষায় প্রায় ৬০টি আমগাছের চারা রোপণ করেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গত ২৭ জুন স্থানীয় বাসিন্দা কামরুজ্জামান একটি আমগাছ ভেঙে ফেলেন। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছে দাবি করে ক্লাবের সদস্যরা মধ্যপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
হামলা ও শ্লীলতাহানির পাল্টা অভিযোগ:
এদিকে গাছ ভাঙার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তা অস্বীকার করেছেন কামরুজ্জামান। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ঘটনার দিন কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে তাঁর বাড়িতে বেআইনি প্রবেশ করে ভাঙচুর, হামলা ও মারধর চালায়। তিনি ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
কামরুজ্জামান আরও দাবি করেন, হামলায় তাঁর বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর স্ত্রীর গলায় থাকা প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া, মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাঁর স্ত্রীকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সমাধানের চেষ্টা ও পুলিশের বক্তব্য:
এ বিষয়ে স্থানীয় সিনিয়র প্রধান শিক্ষক খন্দকার এইচ. আর. হাবিব বলেন, “উভয় পক্ষই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমি সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছি। আশা করছি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।”
মধ্যপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জানান, উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগই গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের পর আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।