রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় পুকুর ইজারার টাকা ভাগাভাগি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আব্দুল মতিন (৪৮) নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁর একটি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
আহত আব্দুল মতিন উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে এবং হামিরকুৎসা বাজারের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
বিরোধের পটভূমি ও পূর্ববর্তী মামলা: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদপাড়া গ্রামের ওসমান আলী ও তাঁর ভাতিজা আব্দুল মতিনের মধ্যে একটি পুকুরের ইজারার অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ মে হামিরকুৎসা বাজারে আব্দুল মতিনের দোকানে ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ওসমান আলী ও তাঁর ছেলে আব্দুল খলিলকে আসামি করে মামলা করা হলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। এরপর আব্দুল মতিনকে প্রধান আসামি করে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়।
মধ্যরাতের হামলা ও স্বজনদের দাবি: স্বজনদের দাবি, পাল্টা মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে আব্দুল মতিন আত্মগোপনে ছিলেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে চলে যাওয়ার পর, রাত ১১টার দিকে মতিন বাড়িতে ফেরেন। খবর পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে ধরতে বাড়িতে চড়াও হয়। মতিন জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে উদপাড়া এলাকায় তাকে ধরে ফেলা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয় এবং মাটিতে পড়ে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার ও পুলিশের বক্তব্য:
আহত ব্যবসায়ীর শ্যালক লিটন হোসেন দাবি করেন, প্রতিপক্ষের নৃশংস হামলায় তাঁর ভগ্নিপতি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আব্দুল খলিল বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা ও সাজানো অভিযোগ আনা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, “এলাকায় একটি মারামারির ঘটনা সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। তবে গুলি ছোঁড়া বা ধারালো অস্ত্রের হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”