ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি ও বেকারি পণ্য তৈরি ও সংরক্ষণের দায়ে পিওর সুইটমিট অ্যান্ড বেকারি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মিষ্টি তৈরির সিরায় ময়লা ও পোকার অংশবিশেষ পাওয়া এবং খাদ্যপণ্য সংরক্ষণে একাধিক অনিয়মের কারণে এ জরিমানা করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই এলাকার বটতলীতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত ভট্টাচার্য।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারখানাটিতে খোলা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেকারি পণ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। চিনির গুঁড়া রাখা হয়েছিল নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে বক্সে। এ ছাড়া কুকিজ তৈরির খামির খোলা অবস্থায় ঢাকনাবিহীন ও লেবেল ছাড়াই সংরক্ষণ করতে দেখা যায়।
কারখানায় মিষ্টির ছানা নোংরা দেয়ালের পাশে পানি ঝরানোর জন্য রাখা হয়েছিল। কেক তৈরির কাঁচামাল এবং কেকের ছাঁটাই করা অংশও লেবেল ছাড়া সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
অভিযানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে মিষ্টি তৈরির সিরায় ময়লা ও পোকার অংশবিশেষ পাওয়ার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি ব্যবহৃত কাঁচামালের ক্রয়চালান এবং উৎপাদিত সব পণ্যের বিএসটিআই লাইসেন্সও দেখাতে পারেননি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমান জানান, অভিযানে খাদ্যপণ্য তৈরি ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অভিযানে পাওয়া অনিয়মের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের মালিক দোষ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। এ সময় নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান শেষে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কালান্তর নিউজ | সত্যের পথে, মানুষের পক্ষে।