কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক তিনটি অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় আনুমানিক ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও অবৈধ চোরাচালান পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রথম অভিযান (চিলমারী বিওপি):
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার (২৯ জুন) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে চিলমারী বিওপির একটি চৌকস টহল দল দায়িত্বপূর্ণ এলাকার শান্তিপাড়া গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ২০ বোতল ভারতীয় মদ, ১ হাজার ৯০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ১ হাজার ১৫০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৭ লাখ ২ হাজার টাকা।
দ্বিতীয় অভিযান (চরচিলমারী বিওপি):
এর আগে গত রবিবার (২৮ জুন) রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে চরচিলমারী বিওপির একটি টহল দল আকন্দপাড়া মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ৭৮০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ২২০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ২৪০ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়। এই চালানের আনুমানিক সিজার মূল্য ৬ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকা।
তৃতীয় অভিযান (বিলগাথুয়া বিওপি):
একই দিন (২৮ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে বিলগাথুয়া বিওপির একটি টহল দল জয়পুর চক বিলগাথুয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭৫ বোতল ভারতীয় স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক সিজার মূল্য ৩০ হাজার টাকা।
বিজিবির প্রত্যয়:
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং দিন-রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।