রাজশাহীর বাঘায় বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মামুন প্রামাণিক (৩৫) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর সারারাত তাঁর মরদেহ খুঁটিতেই ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
উপজেলার আড়ানী পৌরসভার হামিদকুড়া মাঠ এলাকায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত মামুন প্রামাণিক আড়ানী পৌরসভার গোচর মহল্লার বাসিন্দা ভাদু প্রামাণিকের ছেলে ।
যেভাবে প্রকাশ পায় ঘটনা: স্থানীয় বাসিন্দা মহসীন আলী জানান, সকালে বেগুন তুলতে মাঠে গিয়ে তিনি বিদ্যুতের খুঁটিতে একজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের খবর দিলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
ট্রান্সফরমার চুরির শঙ্কা: স্থানীয়দের ধারণা, পাশের খুঁটিতে থাকা ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে মামুন প্রথমে খুঁটিতে ওঠেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বাঁশ, লোহার রড এবং কাটা বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, একটি তার কাটার পর দ্বিতীয় তার কাটতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। কাজ করার সময় গামছা দিয়ে নিজেকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখায় মৃত্যুর পরও তিনি খুঁটিতেই ঝুলে ছিলেন।
পরিবারের বক্তব্য: ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহতের ভগ্নিপতি সোহরাব হোসেন বলেন, মামুন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁদের পরিবারের কোনো দাবি বা অভিযোগ নেই।
নিহতের স্ত্রী শাহানাজ বেগম জানান, স্বামীর বেপরোয়া জীবনযাপনের কারণে তিনি এক প্রতিবন্ধী মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন এবং বর্তমানে ঈশ্বরদী ইপিজেডে চাকরি করেন। বৃহস্পতিবার সকালে মামুন কাজের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু বিকেলে জানান যে শরীর খারাপ থাকায় আড়ানীতেই অবস্থান করছেন। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
আইনি প্রক্রিয়া:
বাঘা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সকাল ৭টা ২০ মিনিটে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পরে পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।