রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহটি তখনো ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মরিয়মের মৃত্যুর কারণ বা ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
মরিয়ম খাতুনকে ঘিরে এর আগে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সামনে আসে। গাজী নজরুল ইসলাম প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, ভিডিওতে থাকা মরিয়ম তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ১৭ জুন ২০২৬ পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহও জানিয়েছিলেন, উভয় পরিবারের সম্মতিতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। মরিয়ম নিজেও এক ভিডিও বার্তায় নিজেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
তবে ওই বিয়ে নিয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন নথি ও বক্তব্য ঘিরে প্রশ্নও ওঠে। বিশেষ করে একটি বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকার বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে।
রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে মৃত্যুর কারণ, ঘটনার সময় এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।