শরতের শুভ্র কাশফুলে সেজেছে খুলনা শহরের সোনাডাঙ্গার কেডিএ ময়ূরী আবাসিক এলাকা। সাদা কাশফুলের দোল, খোলা আকাশ আর নির্মল পরিবেশ—সব মিলিয়ে শরতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটছেন নগরবাসী। ছুটির দিন কিংবা বিকেল হলেই পার্কসংলগ্ন সড়ক ও কাশবন এলাকায় দেখা মিলছে মানুষের ভিড়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাশফুলের সৌন্দর্যের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ময়ূরী আবাসিক এলাকা এখন খুলনাবাসীর অন্যতম আকর্ষণীয় ঘোরার জায়গা হয়ে উঠেছে। সরেজমিনে তোলা ছবিতে দেখা যায়, নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ কাশফুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরছেন, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। সড়কের বিভিন্ন অংশে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের উপস্থিতিও চোখে পড়ছে।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) তথ্য অনুযায়ী, ময়ূরী আবাসিক এলাকা কেডিএর উন্নয়ন করা আবাসিক এলাকাগুলোর একটি। কেডিএর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় নগরবাসীর জন্য পরিকল্পিত আবাসন ও নাগরিক সুবিধা তৈরির পাশাপাশি খোলা জায়গা ও বিনোদনের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
ময়ূরী এলাকা বর্তমানে শুধু আবাসিক প্রকল্প হিসেবেই নয়, খোলা পরিবেশে সময় কাটানোর জায়গা হিসেবেও মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। ২০২৫ সালের ঈদে প্রকাশিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (BSS) এক প্রতিবেদনে ময়ূরী আবাসিক এলাকাকে নির্মাণকাজ তুলনামূলক কম থাকা অবস্থাতেও পরিবার ও বন্ধুদের অবসর কাটানোর জনপ্রিয় জায়গা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এছাড়া ২০২৬ সালের এপ্রিলেও ময়ূরী আবাসিক পার্ক প্রাঙ্গণে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে বৈশাখী কাইট ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়, যা এলাকাটির বিনোদন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্থান হিসেবে ব্যবহারের আরেকটি উদাহরণ।
স্থানীয়দের মতে, বর্ষা শেষে শরতের কাশফুল ফুটলে ময়ূরী আবাসিক এলাকার সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তবে দর্শনার্থীর সংখ্যা কত—এর কোনো সরকারি হিসাব পাওয়া যায়নি; ছবিতে দৃশ্যমান ভিড়ের ভিত্তিতেই বলা যায়, এলাকাটি বর্তমানে বেশ জমজমাট।
প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, কাশফুল নষ্ট না করা এবং সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতনরা।
শরতের সাদা কাশফুল আর মানুষের হাসি—ময়ূরী আবাসিক এলাকা যেন এখন খুলনা নগরীর ব্যস্ত জীবনে এক টুকরো প্রকৃতির ঠিকানা।