দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চরম অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের খেসারত দিচ্ছে সাধারণ জনগণ। চড়া ও অতিরিক্ত দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ফলে সরকারের গচ্চা গেছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের দেওয়া এই চাঞ্চল্যকর তথ্যে দেশের অর্থনৈতিক খাতের নগ্ন চিত্র আবারও উন্মোচিত হয়েছে।
নেপথ্যে যাদের ব্যর্থতা ও দায়িত্বহীনতা:
নীতিনির্ধারক ও আমলাদের দায়: সরকারে দায়িত্বে থাকা সচিব ও উপদেষ্টাদের মূল কাজ হলো রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করা, সুশাসন বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। কিন্তু নিজেদের দূরদর্শিতার অভাব ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তারা দেশকে এক গভীর আর্থিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছেন।
লাভ-লোকসানের হিসাব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা: জনগণের ঘামে অর্জিত করের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত না করে, “জনকল্যাণ” বা “জরুরি পরিস্থিতি”-র দোহাই দিয়ে যেকোনো চড়া মূল্যে কেনাকাটার মাধ্যমে একশ্রেণির নীতিনির্ধারক নিজেদের দায় এড়াতে চান। ব্যবসায়িক বা অর্থনৈতিক জবাবদিহিতা ছাড়াই হরিলুটের এই সংস্কৃতি রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
স্বচ্ছতার ঘাটতি ও সিন্ডিকেটপ্রীতি: দীর্ঘমেয়াদি ও সাশ্রয়ী বিকল্প বাদ দিয়ে হুটহাট চড়া মূল্যে খোলা বাজার (স্পট মার্কেট) থেকে জ্বালানি কেনার পেছনে কোনো বিশেষ সিন্ডিকেটের স্বার্থ জড়িত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জনগণের টাকার এমন অপচয় কেবল লোকসানই বাড়ায় না, বরং প্রশাসনিক অদক্ষতারও চরম পরাকাষ্ঠা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ধরনের অপরিকল্পিত ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের দায় সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও আমলাদেরই নিতে হবে। শুধু লোকসানের হিসাব প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং এই অপচয়ের সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতা এবং কঠোর শাস্তির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।