নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী নভেম্বর মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর যে পরিকল্পনা করেছিল, তাতে বড় ধরণের ধাক্কা লেগেছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের আপত্তির মুখে নভেম্বরের পরিবর্তে আগামী বছরের জানুয়ারিতে ভোট শুরুর দিকে ঝুঁকছে ইসি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সচিব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশের আইজিসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ইসি কর্তৃক নভেম্বরে ভোট শুরুর প্রস্তাব উপস্থাপিত হলে সচিবরা মূলত তিনটি যুক্তিতে আপত্তি প্রকাশ করেন:
১. নভেম্বর ও ডিসেম্বরে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা এবং নানা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস থাকা।
২. ওই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জাতীয় দিবসসমূহ পালন ও নিরাপত্তায় ব্যস্ত থাকা।
৩. সরকারের চলমান অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা।
সার্বিক দিক বিবেচনা করে সচিবরা নভেম্বরের পরিবর্তে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে ইউপি নির্বাচন শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন।
বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, আগামী বছরের ৬ জুনের আগেই, অর্থাৎ এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্বেই ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এই নতুন সিদ্ধান্তের কারণে ইসির পূর্বে ঘোষিত ১২ নভেম্বর থেকে ২৭ মে পর্যন্ত সম্ভাব্য ৭ ধাপে ভোট গ্রহণের রোডম্যাপ পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, দেশের ৪,৫৮৮টি ইউনিয়ন পরিষদের বেশিরভাগেরই মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে সেখানে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।