খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মুফতি আজিজুর রহমান সোহেল (দা.বা.) পরিচালিত রহমানিয়া আরাবিয়া মহিলা মাদরাসায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসার তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে একটি পুরাতন লোহার গ্রিল/দরজা নিয়ে নামার সময় নিচে পড়ে মো. সায়েম (হাবিব) নামে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে উঠেছিলেন।
পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ জঙ্গলঘেরা স্থানে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
এ বিষয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা। চুরি অপরাধ, কিন্তু কারণও ভাবতে হবে
চুরি নিঃসন্দেহে অন্যায়, সমাজের চোখে শাস্তিযোগ্য এবং ইসলামের দৃষ্টিতেও গুনাহ। কিন্তু একটি সামান্য পুরাতন ব্যবহৃত গ্রিল চুরি করতে একজন মানুষ কেন জীবনের এত বড় ঝুঁকি নিলেন—এই প্রশ্নটি আমাদের সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে।
স্থানীয়দের অনেকের মতে, এর পেছনে থাকতে পারে চরম দারিদ্র্য, অভাব ও কর্মহীনতা। একজন মানুষকে চোর বানিয়ে দেওয়ার মতো এই দারিদ্র্য আমাদের সমাজের জন্যও লজ্জার।
শুধু অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। একজন মানুষ কেন অপরাধের পথে গেলেন, সেই সামাজিক কারণটিও খুঁজে দেখা জরুরি।
সচেতন মহলের মতে, সরকারসহ সমাজের বিত্তবানদের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে আসতে হবে, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অভাবের তাড়নায় আর কোনো মানুষকে এমন পথে পা বাড়াতে না হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেছেন।
দ্রষ্টব্য: এ বিষয়ে দিঘলিয়া থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান।
আল্লাহ তাআলা তার ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন।