রাজশাহীতে কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। এতে নদীর চর ও তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। তবে এখনো পদ্মার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী নগরের বড়কুঠি পয়েন্টে পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় শনিবার সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ৪৬ মিটার। সন্ধ্যা ৬টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৫৪ মিটারে। রাজশাহী নগর এলাকার জন্য পদ্মার পানির বিপৎসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ দশমিক ০৫ মিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহীর গেজ রিডার এনামুল হক জানান, গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পদ্মার পানি বাড়ছে। এর মধ্যে কয়েক দফা পানি কমলেও সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত পানি কমেনি, বরং ক্রমাগত বেড়েছে।
পানি বাড়তে থাকায় রাজশাহী নগরের শ্রীরামপুর ও পঞ্চবটি এলাকার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একইভাবে পবা, বাঘা ও গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের নিম্নভূমিতেও পানি ঢুকেছে। রাজশাহী নগরের বিপরীতে সম্প্রতি ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিতি পাওয়া চর এলাকাটিও পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে চরের বাসিন্দারা গবাদিপশু নিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, চরাঞ্চলের জন্য পদ্মার পানির পৃথক কোনো বিপৎসীমা নির্ধারণ করা নেই। তবে নগর এলাকার নির্ধারিত বিপৎসীমার তুলনায় বর্তমানে পানি যথেষ্ট নিচে রয়েছে।
এদিকে পদ্মার পানি বাড়ার দৃশ্য দেখতে বিকেল হলেই নদীর পাড়ে বাড়ছে মানুষের ভিড়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নদীর পাড়ে ঘুরতে আসছেন। কেউ কেউ পদ্মার পানির মনোরম দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করছেন, আবার অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।
স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানির এই অপরূপ দৃশ্য রাজশাহীর মানুষের পাশাপাশি বাইরের দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করে। পরিকল্পিতভাবে নদীর পাড়ের সৌন্দর্য ও পর্যটন সুবিধা বাড়ানো গেলে পদ্মার পাড় রাজশাহীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।