খুলনার তেলিগাতি এলাকার পাকারমাথায় সাজমির নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর দুই সাবেক শিক্ষার্থীর নাম উঠে এসেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুয়েটের ১৯ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মো. তৌফিক ইসলাম কিছুদিন আগে সাজমিরকে চাকরির জন্য তেলিগাতি থেকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে অভিযোগ ওঠে, সাজমির সেখানে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে তেলিগাতিতে ফিরে আসেন। ঘটনাটি প্রায় এক থেকে দুই মাস আগের বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে তৌফিক ইসলাম ও মেকানিক্যাল বিভাগের ২০ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী খান তানভীরসহ আরও কয়েকজন তেলিগাতিতে এসে সাজমিরকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে পাকারমাথা এলাকায় তাকে পেয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, মারধরের একপর্যায়ে সাজমির গুরুতর অসুস্থ হয়ে রক্তবমি করতে থাকলে তাকে কুয়েট ক্যাম্পাসের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে রেখে যাওয়া হয়। তবে অভিযুক্তরা সাবেক শিক্ষার্থী এবং ঘটনাটি ক্যাম্পাসের বাইরে সংঘটিত হওয়ায় পুলিশ সে সময় বিষয়টি গ্রহণ করেনি বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরে সাজমিরকে কুয়েট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে সাজমিরকে মারধর করা হয় এবং পরদিন রোববার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা ও দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কুয়েটের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা হচ্ছে বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করছেন। তবে স্থানীয়ভাবে এটিকে ব্যক্তিগত বিরোধের ঘটনা হিসেবে দাবি করা হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।