যাত্রী নিরাপত্তা অবশ্যই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। তবে স্লিপার বাসের পুরো সেবা বন্ধ করে দেওয়ার পরিবর্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এ খাতের জন্য সুস্পষ্ট ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট মালিক সমিতির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ হাজার স্লিপার এসি বাস চলাচল করছে। এ সেবা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ৮৯টি পরিবহন প্রতিষ্ঠান। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ মানুষের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এ খাতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্লিপার বাস বন্ধ হয়ে গেলে শুধু পরিবহন মালিকরাই নয়, ড্রাইভার, হেলপার, সুপারভাইজার, কাউন্টার কর্মী, গ্যারেজ, বাসের বডি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট বিশাল সাপ্লাই চেইনও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, দীর্ঘপথের যাত্রীদের জন্য স্লিপার বাস রাতের ভ্রমণে তুলনামূলক আরামদায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ফলে নিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ স্লিপার বাসগুলোকে বৈধ কাঠামোর আওতায় আনার দাবি জানানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দাবি, অনিরাপদ, ত্রুটিপূর্ণ ও অনুমোদনহীন স্লিপার বাস অবশ্যই বন্ধ করা হোক। তবে নিরাপত্তার মান পূরণকারী বাসগুলোর জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) দ্রুত পৃথক Safety & Technical Standard এবং অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করুক।
তাদের মতে, প্রায় ১ হাজার বাস, ৮৯টি প্রতিষ্ঠান, ২ লাখের বেশি মানুষের জীবিকা এবং প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগও রক্ষা পাক—এমন একটি বাস্তবসম্মত নীতিমালার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।