সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে একশ্রেণির অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে চিংড়ি মাছে বিষাক্ত জেলি, সাগু ও লবণ পানি পুশ করার জঘন্য কারবারে লিপ্ত রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে চিংড়ি রপ্তানি খাত ও উপকূলীয় মানুষের জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অসাধু ব্যবসায়ীরা মৎস্যঘের থেকে চিংড়ি কিনে তাদের গোপন আস্তানায় বা বাড়িতে নিয়ে সিরিঞ্জের মাধ্যমে ছোট-বড় চিংড়ির মাথায় ও পেটে বিভিন্ন ক্ষতিকারক অপদ্রব্য পুশ করে। ওজন বাড়িয়ে এসব মাছ বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় আড়তগুলোতে। বিশেষ করে শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর, কৈখালী, নূরনগর, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সীগঞ্জ ও আটুলিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এসব অপকর্মের পর্যাপ্ত ভিডিও ফুটেজ ও ছবি রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কেমিক্যাল ও জেলিযুক্ত চিংড়ি খাওয়ার ফলে মানুষ ডায়রিয়া, পেটের পীড়া এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি জটিলতার মতো মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। দ্রুত এটি প্রতিরোধ করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কঠিন স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বে।
জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ও সাদা সোনাখ্যাত চিংড়ি শিল্পের মান রক্ষায় অভিযুক্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকার ভুক্তভোগী ও সচেতন সাধারণ মানুষ।