কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বিএনপি নেতার ওপর অতর্কিত হামলা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার ও আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ভুক্তভোগী মাইজখাপন ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এনায়েত কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোঃ আবুল কালাম আজাদ ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালান। এর জের ধরে স্থানীয় জুলি সুলতানা ঋতু ও তাঁর স্বামী সবুজ মিয়ার দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসার তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
আমিনুল ইসলাম এনায়েত জানান, গত ১৪ আগস্ট রাতে তিনি নীলগঞ্জ পুরান বাজারে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গেলে জুলি সুলতানা ঋতু, স্বপন মিয়া, তরিকুল ইসলাম সোহাগসহ তাঁদের সহযোগীরা অতর্কিত হামলা চালায়। শত শত মানুষের সামনে তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং তাঁর দোকান থেকে নগদ ও ১৮ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে নীলগঞ্জ রেলস্টেশন অফিসে মাইজখাপন ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে মাইজখাপন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ রোকনউদ্দিন ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল হক শাহিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি রুপন আহমেদ সরকারসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় নেতা এনায়েতের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জুলি সুলতানা ঋতুর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে ঝামেলার কারণে আমার বিরুদ্ধে এসব বলা হচ্ছে, আমার নামে কোনো মাদক মামলা নেই।”
কিশোরগঞ্জ মডেল থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।