খুলনার দৌলতপুর আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠ এখন আর শুধু ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নামাজের স্থান নয়, পরিণত হয়েছে কতিপয় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীর লাভজনক আস্তানায়। খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এবং খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে পবিত্র এই স্থানটি দখল করে প্রকাশ্যে খাবারের দোকান চালানের অভিযোগ উঠেছে।
রাতের চিত্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ঈদগাহ মাঠের ভেতরের অংশে টিনের অস্থায়ী ছাউনি দিয়ে টেবিল-চেয়ার পেতে অবাধে চলছে কেনাবেচা। প্রকাশ্যে এলপিজি গ্যাসের চুলা, বড় বড় পানির ড্রাম ও রান্নাঘরের সরঞ্জাম বসিয়ে চলছে খাবার তৈরির কাজ। দোকানের চারপাশ কাদাপানি আর ময়লা-আবর্জনায় নোংরা হয়ে পড়েছে, এমনকি রেস্তোরাঁর বিস্তার ঘটেছে মাঠের চারপাশের গাছের নিচেও।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ওয়াকফকৃত এই ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠে মূলত ঈদের জামাত ও জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। অথচ এখন সন্ধ্যা নামলেই সেখানে জমে ওঠে হোটেল-রেস্তোরাঁর জমজমাট ব্যবসা। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনের অসাধু চক্র নিয়মিত ‘মাসোহারা’ বা অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এই দখলদারি অব্যাহত রেখেছে।
এ ছাড়া খোলা এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের ফলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ঈদের নামাজ ও ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষার্থে অবিলম্বে এসব অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লি ও সুশীল সমাজ।