সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থল ভামিয়া খালের গোড়ায় থাকা ৫ কপাটের (ছিদ্রের) ঐতিহ্যবাহী স্লুইসগেটটি এখন চরম ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে জরাজীর্ণ স্লুইসগেটটি ভেঙে গিয়ে ভামিয়া, পোড়াকাটলা, দুর্গাবাটি ও দাতিনাখালী এলাকা লোনা পানিতে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় মৎস্যচাষিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই ভঙ্গুর ও হেলে পড়া স্লুইসগেট দিয়ে স্থানীয় মৎস্যচাষিরা ঘেরে পানি আনা-নেওয়া করতেন। প্রায় এক বছর আগে স্লুইসগেটটির একটি অংশ ভেঙে পড়লে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে জিওব্যাগ ফেলে রিভার সাইট আটকে দেওয়া হয়। তবে চলমান বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানির প্রবল তোড়ে সেই অস্থায়ী জিওব্যাগের বাঁধটি ভেঙে গেছে।
বর্তমানে ১১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া অমাবস্যার গৌণমুখী জোয়ারের কারণে স্লুইসগেটের গোড়ায় ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে এবং তীব্র গতিতে ভেতরের দিকে পানি প্রবেশ করছে। এছাড়া কান্ট্রি সাইডের প্রায় ২০০ ফুট এলাকায় রাস্তা সংলগ্ন ৫টি স্থানে নতুন করে ভাঙন ধরে যাতায়াতের পথও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এটি প্রতিরোধ করা না গেলে আনুমানিক ৫ হাজার বিঘার চিংড়ি, কাঁকড়া ও অন্যান্য মৎস্য প্রকল্প লোনা পানিতে ভেসে গিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে।
এলাকাবাসী ও মৎস্যচাষিরা জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা। অবিলম্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপে জিওব্যাগ দিয়ে নদীর পাশের অংশটি পুরোপুরি সিল করা এবং কান্ট্রি সাইডের ভাঙন কবলিত ৫টি স্থান দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তারা। একইসাথে ভবিষ্যতে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থায়ীভাবে নতুন একটি বড় বাজেটের স্লুইসগেট নির্মাণের জোর দাবি উঠে এসেছে।