রাজনৈতিক মঞ্চে দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে চমৎকার সৌহার্দ্য ও সৌজন্য দেখা গেলেও মাঠপর্যায়ে সেটির প্রতিফলন নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।
তিনি বলেছেন, “নেতারা রাতে ক্ষমতার টেবিলে পাশাপাশি বসেন, ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেন; অথচ রাজনৈতিক সংঘাতের খেসারত দিতে গিয়ে মাঠে চোখের দৃষ্টি হারাতে হয় ১৮ বছরের তরুণের মতো কর্মীদের।”
বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ডা. তাসনিম জারা দুটি সাম্প্রতিক দৃশ্যপট তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “প্রথম দৃশ্যে দেখলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধ্যাপক ইউনূসকে সম্মান জানিয়ে নিজের পাশে বসালেন। দ্বিতীয় দৃশ্যে দেখলাম একটি অনুষ্ঠানের হট্টগোল থামাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ নাম ধরে ডাকলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে। মঞ্চে সৌজন্যের কোনো ঘাটতি নেই, পাশে বসানো যায়, নাম ধরেও ডাকা যায়।”
এরপরই হবিগঞ্জে রাজনৈতিক সহিংসতায় বাঁ চোখ হারানো এনসিপি ও ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’-র ১৮ বছর বয়সী কর্মী আলিফ চৌধুরীর প্রসঙ্গ টেনে তাসনিম জারা প্রশ্ন তোলেন, “মঞ্চের এই বোঝাপড়া আর সৌজন্য যদি তৃণমূল পর্যন্ত নামত, তবে কি আলিফের মতো একটা ছেলেকে চোখ হারাতে হতো?”
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় রডের আঘাতে চোখ নষ্ট হয় আলিফের।
মাঠপর্যায়ের রাজনীতির অপ্রিয় সত্য তুলে ধরে এই চিকিৎসক ও সাবেক এনসিপি নেত্রী আরও লেখেন, “মঞ্চ থেকে যখন হুংকার আর দেখে নেওয়ার হুমকি ছোড়া হয়, মাঠে গিয়ে তা রূপ নেয় লাঠি, রড ও ইটে। অথচ রাতে নেতারা পাশাপাশি বসেন। মাঝখানে কেবল বলি হয় আলিফদের মতো মাঠের কর্মীরা। আর কোনো প্রাণ বা চোখ যাওয়ার আগেই যেন কেন্দ্র থেকে এই সৌজন্য মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়।”