সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ঘোলা ত্রি-মোহনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীব্র নদীভাঙন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের তথ্য ও সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ প্রদান, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার ও ট্রলার ব্যবহার করে দিন-রাত নদী থেকে অবিরত বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চললেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ শুরু করলে শহিদুল ইসলামের সহযোগী পরিচয়ে ফাহাদ নামের এক ব্যক্তি ফোনে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে শহিদুল ইসলাম সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনৈতিক অনুরোধ জানান। সাংবাদিক এতে সাড়া না দিয়ে নিজের পেশাগত দায়িত্বে অনড় থাকলে তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও সরাসরি দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ নদীপাড়ের মানুষ দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং সংবাদকর্মীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।