ফেরিঘাটের দীর্ঘ জটলা, উত্তাল নদীতে স্পিডবোট উল্টে দুর্ঘটনা আর মুমূর্ষু রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারার দীর্ঘদিনের কান্না—সব ভোগান্তির অবসান ঘটতে যাচ্ছে ভোলাবাসীর। বহুল প্রতিক্ষীত ও স্বপ্নের ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ)।
ভোলা ও বরিশালের সংযোগকারী এই সেতুটি নির্মিত হলে দুই জেলার মধ্যকার ৩ ঘণ্টার ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথের দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিটের সড়কপথে নেমে আসবে।
প্রকল্পের যত বিস্তারিত:
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই মেগা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭,৪৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। তেঁতুলিয়া ও কালাবদর নদীর ওপর নির্মিতব্য ৪ লেনের এই মূল সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১০.৮৬ কিলোমিটার। সংযোগ সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ এর মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াচ্ছে ১৬.৩৬ কিলোমিটারে—যা মূল দৈর্ঘ্যের দিক থেকে পদ্মা সেতুর চেয়েও বড় হতে যাচ্ছে।
জাপানের প্রখ্যাত নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘মিয়াগাওয়া কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’ প্রকল্পটিতে বিনিয়োগ ও বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩৩ সালের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা:
ভোলা-বরিশাল সেতু শুধু যাতায়াত ব্যবস্থাই সহজ করবে না, এটি পুরো দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেবে। দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলায় থাকা বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস জাতীয় গ্রিডে পৌঁছানো এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে শিল্প কারখানায় সরবরাহ করা সহজ হবে। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে ভোলার ২৫ লাখ মানুষের জীবনযাত্রায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে।