ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর ও ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনট এলাকার ব্যস্ততম আন্তঃজেলা নৌঘাটে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। পদ্মার উত্তাল স্রোত ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও সব ধরণের নিরাপত্তা আইন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যাত্রী পরিবহন করায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরণের নৌ-দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীতে চলাচলকারী অধিকাংশ স্পিডবোটে যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য কোনো লাইফ জ্যাকেট পরানো হচ্ছে না। একই সাথে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো হচ্ছে। সাধারণ বড় স্পিডবোটে ১৪ জন যাত্রী বহনের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে উঠানো হচ্ছে ১৮ থেকে ১৯ জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বে খাস আদায়কালে লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক থাকলেও চলতি বছর ইজারাদারদের হাতে ঘাট যাওয়ার পর নিয়মকানুন পুরোপুরি শিথিল হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘাটের ইজারাদার বাবুল শিকদার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “প্রতিটি স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট আছে। যাত্রীরা চাইলে দিই, তারা নিজেরা পড়তে চান না।” অন্যদিকে স্পিডবোট চালক হারুন মোল্যা জানান, লাইফ জ্যাকেট ড্রয়ারে রাখা আছে, কিন্তু কেন যাত্রীদের তা পরতে বাধ্য করা হয় না—তার স্পষ্ট জবাব তিনি দেননি।
ভাড়া বৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভাব:
নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা। পূর্বে ১৫০ টাকা ভাড়া থাকলেও বর্তমানে সীমানা বৃদ্ধির অজুহাতে অতিরিক্ত ৩০ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া লঞ্চগুলোতেও পর্যাপ্ত লাইফ বয়া ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘোর ঘাটতি রয়েছে।
রাজস্ব ফাঁকি ও ইজারা বিতর্কের অভিযোগ:
ঘাটের সাবেক ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান শিকদার এক বিস্ফোরক অভিযোগে বলেন, “২০২২ সালে আমি ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে ঘাট ইজারা নিয়েছিলাম। কিন্তু চলতি বছরে গোপন ও পর্যাপ্ত প্রচার ছাড়াই মাত্র ৭০ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে।” তিনি পুরো প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুন এই মৈনট-গোপালপুর নৌপথে চর ঝাউকান্দি এলাকায় এক স্পিডবোটে নৌ-ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এতে চালক গুরুতর আহত হন এবং যাত্রীদের মালামালসহ ইঞ্জিন লুট করা হলেও রহস্যজনকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা জিডি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য নিতে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অবিলম্বে উত্তাল পদ্মায় যাত্রীদের জীবন রক্ষায় বাধ্যতামূলক লাইফ জ্যাকেট পরিধান ও ইজারা সংক্রান্ত দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন মহল।