লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কাদমা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জাহাঙ্গীর (পিতা: মোঃ জামাল মিয়া)-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্য মাদক কারবার পরিচালনার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসীর দাবি, জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে মাদক বিক্রির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তার বাড়িতে প্রতিনিয়ত অপরিচিত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখা যায়, যা নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, জাহাঙ্গীরের মাদক সিন্ডিকেট এলাকায় এতটাই বিস্তৃত যে—এলাকার একটি ছোট শিশুও তার এই অনৈতিক ব্যবসার কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারে। এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে চলায় কেউ তার কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ বা সমালোচনা করলে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, এক মাদকসেবী জাহাঙ্গীরের কথিত মাদক লেনদেন-সংক্রান্ত একটি চাঞ্চল্যকর কল রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোঃ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি প্রথমেই নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রতিবেদককে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়ার সরাসরি প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে তিনি দাম্ভিকতার সাথে বলেন, “এমনিতেও আপনাদের নিউজে আমার কিছু হবে না, তবুও টাকা দিয়ে দিচ্ছি।” পরে টাকা পাঠানোর জন্য তিনি প্রতিবেদকের কাছে বিকাশ নম্বরও জানতে চান।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রমজান আলী বলেন, “আমাদের মাদকবিরোধী কঠোর অভিযান সার্বক্ষণিক চলমান রয়েছে। এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”