জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সমান জাতীয় মর্যাদায় স্মরণ করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক কাজী সাইমুম সিরাজ।
আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জুলাইয়ের শহীদরা শুধু কোনো একটি বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর নয়, তারা সমগ্র জাতির গর্ব। আবু সাইদ, ওয়াসিম আকরামের মতো আলোচিত শহীদদের পাশাপাশি ফার্নিচারের দোকানের শ্রমিক শহীদ ফারুক, শহীদ রাতুল কিংবা ফুটফুটে শিশু রিয়া গোপসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগও সমানভাবে স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে আন্দোলনের সূচনা হলেও পরবর্তী সময়ে কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, কামারসহ দেশের সর্বস্তরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। তাদের অনেকেই দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং অনেকেই আজ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।
কাজী সাইমুম সিরাজ আরও বলেন, “আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি নিজে বহু শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি এবং আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও সহযোগিতা কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত ছিলাম। সরকারিভাবে প্রকাশিত আহতদের গেজেট পর্যালোচনা করেও দেখা যায়, গুরুতর আহতদের মধ্যে শ্রমজীবী ও সাধারণ কর্মজীবী মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।”
বিগত সরকারের পতন আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা শেখ হাসিনা সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শুধু শিক্ষার্থীরা নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমজীবী মানুষ এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষ একসঙ্গে রাজপথে নেমেছিলেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন পরবর্তীতে একটি সর্বজনীন ও ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছিল।”
বর্তমান সময়ের কিছু কর্মকাণ্ডে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজ অত্যন্ত দুঃখের সাথে দেখতে হয়—কোথাও ব্যানারে কার নাম থাকবে তা নিয়ে বিতর্ক দেখা যায়, কোথাও শুধু দলীয় কর্মীদের কবর জিয়ারত করা হয়। কিন্তু শহীদ ফারুক, শহীদ রাতুল কিংবা নাম-না-জানা অসংখ্য শ্রমজীবী শহীদদের পরিবার ও কবরের খোঁজ কতজন নিয়েছেন—সেই বড় প্রশ্নটা আজ থেকেই যায়।”
বিবৃতির শেষে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জুলাইয়ের এই মহান আত্মত্যাগ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। এটি পুরো বাংলাদেশের ইতিহাস। তাই দল-মত নির্বিশেষে সব শহীদ ও আহত যোদ্ধার প্রতি সমান সম্মান, সঠিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং তাদের অসহায় পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।”