আগামী আগস্ট মাসের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার পর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনও (ইসি) ইউপি নির্বাচনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের প্রাথমিক পথরেখা (রোডম্যাপ) ও প্রস্তুতি গুছিয়ে আনছে। মূলত আগামী ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইসি ইতিমধ্যে ইউপি, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য পৃথক রোডম্যাপ তৈরি করেছে, যা চলতি মাসের শেষ দিকে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে।
এদিকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও গতকাল সচিবালয়ে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতির কথা জানান। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্ত্রণালয় ও ইসি সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০২১ সালের জুনে প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আইন অনুযায়ী পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতিমধ্যে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটেও এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ শেষ পর্যায়ে এবং এর খসড়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনগণের মতামত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সীমানা নির্ধারণ ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সবুজ সংকেতের ওপর চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করছে।
ইসি মনে করছে, স্থানীয় সরকার বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংঘাত-সহিংসতার অতীত নজির থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে একসঙ্গে সব ভোট না করে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজন করা হবে। প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তার মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের পরিকল্পনা সাজানো হবে। ভোটকেন্দ্রে প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন রেখে নির্বাচন পরিচালনার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।