বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের মধ্যকার রোমাঞ্চকর ম্যাচটি উপভোগ করার সময় ফুটবলীয় উন্মাদনা রূপ নিলো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। আর্জেন্টিনার জালে মিসরের গোল করা নিয়ে উল্লাস করায় মাঈনুদ্দিন মিঠু (৩৫) নামে এক ব্রাজিল সমর্থককে কাঠের টুকরো দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ সাকিব (২০) নামে এক আর্জেন্টিনা ভক্তের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) রাতে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার কাঁটাছড়া ইউনিয়নের তেতৈয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত ব্রাজিল সমর্থক মাঈনুদ্দিন মিঠু তেতৈয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। ঘটনার পর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা ইরফান উদ্দিন জানান, রাতে পাড়ার একটি দোকানে বসে এলাকার কয়েকজন একসঙ্গে আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার শেষ ১৬-র ম্যাচটি দেখছিলেন। খেলা শুরুর পর মিসরের খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার জালে গোল করতেই সেখানে থাকা ব্রাজিল সমর্থক মিঠু আনন্দে উল্লাস করে ওঠেন। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ঘটনাস্থলে থাকা আর্জেন্টিনার সমর্থক মোহাম্মদ সাকিব। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। মারামারির একপর্যায়ে সাকিব একটি কাঠের টুকরো দিয়ে মিঠুর ডান চোখের ওপরে সজোরে আঘাত করেন। এতে মিঠুর মুখ ও চোখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। অবশ্য মিঠুর পাল্টা ঘুষিতে সাকিবও মাথায় সামান্য আঘাত পান।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আর্জেন্টিনা সমর্থক মোহাম্মদ সাকিব পলাতক রয়েছেন। এলাকায় গিয়ে বা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাজু সিংহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “রাতে খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে মারামারিতে আহত এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার ডান চোখের ওপরে ৫ সেন্টিমিটার লম্বা এবং পাশে ২ সেন্টিমিটার ও ১ সেন্টিমিটার গভীর ক্ষত ছিল। ডান চোখের কোণায় মারাত্মক আঘাত ও ফোলা ছিল।”
চিকিৎসক আরও জানান, “আঘাতের ধরন দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, লাঠি বা ভারী কাঠের টুকরো দিয়ে সজোরে আঘাত করা হয়েছে। হাসপাতালে আনার পর রোগী বেশ কয়েকবার বমি করায় মাথার ভেতরে ইন্টারনাল ইনজুরির আশঙ্কায় আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছি।” এই ঘটনায় এলাকায় ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।