বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিশেষ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর তীব্র সমালোচনা করে তাদের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
জোট গঠন ও বেইমানির অভিযোগ:
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, “এনসিপির সাথে জোট করার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আমার পা ধরতে বাকি রেখেছিল। এনসিপি, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতেই সে এমন করেছিল!”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও লেখেন, “অথচ এই রাজনৈতিক ইতর (নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী) আমাকে নিয়ে আজকে সংবাদ সম্মেলন করে বাজে কথা বলল! জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এমন কোনো কথা নাই যে সে বলেনি, পরে জামায়াতের কাছে এনসিপি ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে।”
‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের হুমকি’:
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘বামশিবির’ ও ‘আদর্শচ্যুত’ আখ্যা দিয়ে বিএনপির এই নেতা লেখেন, “আমি জানতাম আদর্শচ্যুত বামশিবির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জামায়াতের কাছেই বিক্রি হবে, এজন্য আমি তাদের ফাঁদে পা দিইনি। গণঅধিকার পরিষদ ২০২২ সাল থেকে বিএনপির সাথে জোটে ছিল। আমি এমন কোনো দলে যাইনি, যে দল জামায়াতের মতো স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রের জন্য হুমকি।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, জামায়াতকে নিয়ে এসব নেতিবাচক কথা স্বোদলীয় এই পাটওয়ারীই আগে বিভিন্ন জায়গায় ছড়াতেন। পাটওয়ারী পর্যায়ক্রমে শিবির, বাম, এবি পার্টি করে এখন এনসিপি করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শারীরিক ও ব্যক্তিগত আক্রমণ:
পোস্টের শেষ অংশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ব্যক্তিগত জীবন ও আসক্তি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, “তার আশপাশের লোকজনই আমাকে বলেছে, নাসিরউদ্দিন গাঁজা-ইয়াবা সব খায়। ওর চোখমুখই তার তো প্রমাণ, ওর শরীর নিকোটিনে ভরা। ওর এখন থেকে রূপায়নেই বসেই গাঁজা টানতে হবে।”
জনগণের প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “গাঁজা খেয়ে বাইরে গিয়ে আবোলতাবোল বললেই পাবলিকের ডিমের ওপর দিতে যেতে হবে। গালাগাল ও বেয়াদবি করা যদি ওর স্বাধীনতা হয়, তবে প্রতিবাদে ডিম মারাও সংক্ষুব্ধদের স্বাধীনতা।”
রাজনৈতিক মহলে নতুন এই কাদা ছোড়াছুড়ি এবং জোট ভাঙা-গড়ার খেলায় রাশেদ খাঁনের এই ফেসবুক পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে এবং এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।