রাজধানীর মিরপুরের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহ আলী বাগদাদীর (রহ.) মাজারে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও ভক্তদের মারধরের ঘটনায় ২০৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত এক নারী বাদী হয়ে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দারুস সালাম অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) ইমদাদ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা:
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে অর্ধশতাধিক উগ্রপন্থী ব্যক্তি শাহ আলী মাজারে আকস্মিক হামলা চালায়। তারা মাজারের ভেতরে থাকা জিয়ারতকারী ও সাধারণ ভক্তদের বেধড়ক মারধর করে, এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। ছড়িয়ে পড়া হামলার ভিডিওতে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরা একদল লোক লাঠি হাতে মাজারে ঢুকে যাকে সামনে পাচ্ছে তাকেই পেটাচ্ছে।
হামলার প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক পরিচয়:
ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মী ছিলেন। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। দলটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, এই ঘটনার সাথে জামায়াত বা শিবিরের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন।
এদিকে মামলার আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, মামলায় আসামিদের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ থাকলেও কোনো রাজনৈতিক পরিচয় লেখা হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের আসল পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতি বৃহস্পতিবার মাজারে বড় অনুষ্ঠান হয় এবং অনেক রাত পর্যন্ত জমায়েত থাকে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মাজারের ভেতরে কিছু লোকের মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও বহিরাগতদের মাঝে বাগ্বিতণ্ডা ও বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে এই বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে মাজারের ভক্ত ও খাদেমরা মাদক সেবনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেছেন, কোনো উসকানি ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা নিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে।