দেশের ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিনে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এই নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে:
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জনগণ মনে করে, এই নিয়োগগুলোতে নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে এমন দলীয়করণের সংস্কৃতি জাতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে যে অগণতান্ত্রিক ধারা শুরু হয়েছিল, সরকার এখন তা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিস্তৃত করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মুক্তবুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও সেখানে দলীয় হস্তক্ষেপে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বৈষম্যহীন শাসনব্যবস্থার আহ্বান:
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা। কিন্তু সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, তারা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পথে হাঁটছে। এটি দেশের গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি অশনিসংকেত।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অবিলম্বে এই নিয়োগগুলো পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ এবং প্রকৃত একাডেমিক যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।