দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৫ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে ৬৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটায় শিশুদের মধ্যে যে ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার ফলেই হামের এমন ভয়াবহ বিস্তার। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম জানান, টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের নিচে নামলে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া শিশুদের অপুষ্টি এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল না পাওয়াকেও মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
মৃত্যুর প্রধান কারণ নিউমোনিয়া
চিকিৎসকদের মতে, হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর পেছনে মূল ঘাতক হিসেবে কাজ করছে নিউমোনিয়া। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অতিরিক্ত জ্বর এবং তীব্র ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আশার আলো টিকাদানে
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৭৯ লাখ শিশুকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ শতাংশের বেশি। তবে টিকা দেওয়ার পর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, মে মাসের শেষ বা জুনের শুরুতে সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।