মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে না এলেও পর্দার আড়াল থেকে দেশটির যুদ্ধ কৌশল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয় বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই তিনি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবহার করছেন না। তার নির্দেশ বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মৌখিকভাবে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এই গোপনীয়তার কারণে মার্কিন প্রশাসনের কাছে মোজতবার অবস্থান ও কার্যক্রম নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় রয়েছেন।
এদিকে মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, ইরানের বর্তমান ক্ষমতা কাঠামো অনেকটাই বিভক্ত ও জটিল। দেশটির ভেতরে কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কিছু বিশ্লেষকের মতে, ইরানের বিভিন্ন ক্ষমতাকেন্দ্র নিজেদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মোজতবার নাম ব্যবহার করছে।
সামরিক দিক থেকেও চাপে রয়েছে ইরান। মার্কিন হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির অনেক লঞ্চার এখনো সচল রয়েছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের উত্থানও গুরুত্ব পাচ্ছে। কূটনৈতিক ও সামরিক দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে বর্তমানে ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নতি স্বীকারের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ কৌশল বেছে নিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার বদলে আরও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।