কোয়াকোয়ারেলি সাইমন্ডস (কিউএস) প্রকাশিত ‘এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭’-এ ৫০ ধাপ এগিয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। এবারের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি ৮০১–৮৫০তম ব্যান্ডে জায়গা করে নিয়েছে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ছিল ৮৫১–৯০০তম ব্যান্ডে।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এ র্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার ২৬টি দেশের ১ হাজার ৭২০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এতে বাংলাদেশের ৫২টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথভাবে ২৬তম অবস্থানে রয়েছে নোবিপ্রবি। দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ২৪৭তম এবং দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পঞ্চম। দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
কিউএসের পারফরম্যান্স সূচক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতের অগ্রগতি নোবিপ্রবির র্যাঙ্কিং উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
‘প্রতি গবেষণাপত্রে উদ্ধৃতি’ (Citations per Paper) সূচকে ১০০-এর মধ্যে ৮৪.৫ নম্বর পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ সূচকে এশিয়ায় তাদের অবস্থান ১৭৫তম। অন্যদিকে, ‘আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক’ সূচকে ৭৩.২ নম্বর পেয়ে এশিয়ায় ৩৭৬তম স্থান অর্জন করেছে।
তবে শিক্ষকপ্রতি গবেষণাপত্র, পিএইচডিধারী শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, একাডেমিক সুনাম, নিয়োগকর্তাদের মূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী বিনিময়সহ কয়েকটি সূচকে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট সেলের অতিরিক্ত পরিচালক ও ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাহাদ হোসেন বলেন, “আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ের প্রতিযোগিতায় স্থায়ীভাবে টিকে থাকতে হলে আমাদের যুগোপযোগী ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপ বাড়াতে হবে।
একই সঙ্গে র্যাঙ্কিং সেলকে আরও গতিশীল করে একাডেমিক সুনাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বাড়ানোর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আকর্ষণ করতে হবে। এই ৫০ ধাপের অগ্রগতি আমাদের জন্য দারুণ এক অনুপ্রেরণা।”
নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “বৈশ্বিক এই সাফল্য পুরো নোবিপ্রবি পরিবারের সম্মিলিত শ্রম ও সাধনার ফসল। শিক্ষার মান উন্নত করা এবং বিশ্বমানের গবেষণাধর্মী পরিবেশ তৈরিতে আমরা সবসময় বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতের র্যাঙ্কিংয়ে আরও উঁচুতে পৌঁছাতে এই অর্জন আমাদের দারুণভাবে উৎসাহিত করবে।”