গাজীপুরে নিহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক শেখের গায়েবানা জানাজা করতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় শ্রমিক শক্তির নেতৃবৃন্দের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে।
আজ ৪ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর পৌনে ১টার দিকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের সময় মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলায় গুরুতর আহত হন লায়লা স্টাইলস লিমিটেডের কাটিং সেকশনের শ্রমিক তৌফিক শেখ (২২)। তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবিবর রহমানের ছেলে। সোমবার আহত হওয়ার পর উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়।
তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় এনসিপি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি পূর্বঘোষিত গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসির খানসহ জেলা ও মহানগরের নেতারা।
হামলার বিবরণ:
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে জানাজা শুরু করতে গেলে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা বাধা দেন। এক পর্যায়ে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই হামলায় আহতরা হলেন-
– জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহার ফকির
– গাজীপুর জেলা এনসিপির সদস্য সচিব আবুল কাশেম মাস্টার
– শ্রমিক শক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব শেখ রায়হান
– গাজীপুর মহানগর যুব শক্তির মুখ্য সংগঠক জিল্লুর রহমান
– শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ শাহানা, যুব শক্তির কোনাবাড়ি থানার মুখ্য সংগঠক রকিবুল ইসলাম জয়সহ ২০ জনের বেশি নেতাকর্মী।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আলী নাসির খান বলেন, “আমাদের শান্তিপূর্ণ গায়েবানা জানাজায় পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে। আমরা তৌফিক হত্যার বিচার এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
এদিকে গাজীপুর শিল্প পুলিশ বলছে, মহাসড়ক অবরোধ করে জানাজার প্রস্তুতি নেওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে গাজীপুরে ১৩ প্লাটুন বিজিবি, পুলিশ ও ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন রয়েছে।