খুলনা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা মজিদ সরণিতে বিভিন্ন শোরুম ও শপিংমলের সাইনবোর্ড চুরির অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক দিন ধরে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান নামফলক খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ব্যবসায়ীরা।
শিববাড়ি থেকে সোনাডাঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত মজিদ সরণি খুলনা নগরীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক সড়ক। এখানে রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম, বিপণিবিতান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সম্প্রতি একটি চক্র রাতের আঁধারে কিংবা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দামি সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে যাচ্ছে।
সাইনবোর্ড চুরিতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা
ভুক্তভোগী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি সাইনবোর্ড তৈরিতে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। ফলে এসব সাইনবোর্ড চুরি হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শোরুম ব্যবস্থাপক জানান, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতিমূলক সাইনবোর্ড এভাবে খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
কয়েকজন ব্যবসায়ীর ধারণা, এসব চুরির পেছনে সংঘবদ্ধ কোনো চক্র থাকতে পারে। তবে এর সঙ্গে চাঁদাবাজি কিংবা অন্য কোনো অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
রাতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ব্যবসায়ীদের
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাতের বেলায় মজিদ সরণিতে পুলিশের টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাত ১১টার পর সড়কটির বিভিন্ন অংশে নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
এ পরিস্থিতিতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
দাবিগুলো হলো—
১. শিববাড়ি থেকে সোনাডাঙ্গা পর্যন্ত মজিদ সরণিতে রাতভর নিয়মিত পুলিশ টহল নিশ্চিত করা।
২. আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে সাইনবোর্ড চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা।
৩. শোরুম ও শপিংমলকেন্দ্রিক বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ব্যবসায়ীদের মতে, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে। তাই মজিদ সরণির ব্যবসায়িক পরিবেশ ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।