ভারতের বিহার রাজ্যের নালন্দা জেলার একটি গ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। গ্রামটিতে বর্তমানে কোনো মুসলিম পরিবার না থাকলেও প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ তাঁরা পরম যত্নে সংরক্ষণ করে আসছেন। মসজিদটিতে পেনড্রাইভ ও লাউডস্পিকারের মাধ্যমে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত আজান বাজানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এএনআই (ANI), দ্য ওয়্যার (The Wire), পিপলস আর্কাইভ অব রুরাল ইন্ডিয়া (PARI) এবং বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডসহ একাধিক গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে এই মসজিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্প্রীতির গল্প প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই শতাব্দী আগে জমিদার কবির আলম মসজিদটি নির্মাণ করেন। একসময় গ্রামটিতে মুসলিম পরিবারের বসবাস থাকলেও জমিদারি প্রথার অবসান এবং বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার পর তাঁরা ধীরে ধীরে গ্রাম ছেড়ে চলে যান।
গ্রামের মুখিয়া কারু তান্তির বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৪২, ১৯৪৬ ও ১৯৮১ সালের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা মুসলিম পরিবারগুলোর গ্রাম ছাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।
তবে মুসলিমদের বসবাস না থাকলেও মসজিদটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখেননি স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দারা।
প্রায় ১৫ বছর আগে গ্রামের তিন যুবক অজয় পাসোয়ান, বাখোরি বিন্দ ও গৌতম প্রসাদ মসজিদটি পরিষ্কার করেন এবং নতুন করে রং করেন। এরপর তাঁরা পেনড্রাইভ ও লাউডস্পিকারের সাহায্যে পাঁচ ওয়াক্ত আজান প্রচারের ব্যবস্থা করেন।
মসজিদটির স্থাপত্যেও রয়েছে ঐতিহ্যের ছাপ। এতে তিনটি গম্বুজ ও চারটি মিনার রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মসজিদের ভেতরে কোরআনের আয়াতসংবলিত ফ্রেম এবং হিন্দি অনুবাদসহ কোরআন শরিফ যত্ন করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয় হিন্দু পুরোহিত জানকী পণ্ডিতের বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের পর নবদম্পতিরা প্রথমে এই মসজিদে এসে আশীর্বাদ নেন।
ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও একটি উপাসনালয়কে ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে আগলে রাখার এই উদ্যোগ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক বিরল দৃষ্টান্ত।
ভারতের গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতি বলতে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে বোঝানো হয়। নালন্দার এই মসজিদকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগ সেই সম্প্রীতিরই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ANI (২৯ আগস্ট ২০১৯), The Wire ও PARI India।