শহর থেকে মফস্বল, দেশের সড়কে মোটরসাইকেল এখন বহুল ব্যবহৃত একটি যানবাহন। কর্মস্থলে যাতায়াত, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ও জরিমানার বিষয়টি নিয়ে বাইকারদের অসন্তোষ।
বাইকারদের অভিযোগ, মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেটসহ বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলতে গিয়ে অনেক সময় তাদের জটিল প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও হয়রানি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
<span;><span;>রাইডারদের অভিযোগ, আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা চান তারা
বাইকারদের বড় একটি অংশের অভিযোগ, ট্রাফিক আইন অমান্যের ক্ষেত্রে জরিমানার পাশাপাশি মামলা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া অনেক সময় সাধারণ মানুষের জন্য জটিল হয়ে দাঁড়ায়।
একজন বাইকার বলেন, “আমরা আইন মানতে চাই। কিন্তু নিয়মগুলো যদি সহজ ও স্পষ্টভাবে জানা যায় এবং আইন প্রয়োগে সবার সঙ্গে সমান আচরণ করা হয়, তাহলে সমস্যার অনেকটাই কমে যাবে।”
অনেক রাইডার মোটরসাইকেলের কাগজপত্র সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে গাড়ির নিবন্ধন, ট্যাক্স ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ বাড়ানো গেলে সড়কে অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র বহনের ঝামেলাও কমতে পারে।
<span;><span;>জিগজ্যাগ টেস্ট নিয়েও প্রশ্ন
ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়ায় মোটরসাইকেলের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য নেওয়া জিগজ্যাগ টেস্ট নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে।
রাইডারদের একাংশের দাবি, পরীক্ষার পদ্ধতিকে আরও বাস্তবধর্মী করা প্রয়োজন। তাদের মতে, মোটরসাইকেল চালকের দক্ষতা যাচাইয়ের পাশাপাশি বাস্তব সড়কে নিরাপদে চালানোর সক্ষমতা, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জ্ঞান এবং ঝুঁকি মোকাবিলার দক্ষতাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, মোটরসাইকেল চালকের নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য যাচাই করাই এ ধরনের পরীক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য।
<span;><span;>মডিফিকেশন নিয়েও বিতর্ক
ফগ লাইট, অতিরিক্ত আলো, উচ্চ শব্দের হর্ন, স্টিকার কিংবা মোটরসাইকেলের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন নিয়েও বাইকারদের সঙ্গে ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের মতবিরোধ রয়েছে।
রাইডারদের একাংশ এগুলোকে ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে দেখলেও ট্রাফিক সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, অতিরিক্ত আলো বা শব্দ অন্য চালকদের বিভ্রান্ত করতে পারে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই সড়কের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অনুমোদনহীন পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
<span;><span;>অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
আইন প্রয়োগের সময় হয়রানি, অযৌক্তিক মামলা কিংবা ঘুষ দাবির অভিযোগও বিভিন্ন সময় উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে ট্রাফিক পুলিশের বক্তব্য, আইন ভাঙলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কোনো কর্মকর্তা অনিয়ম বা ঘুষের সঙ্গে জড়িত থাকলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
<span;><span;>সমাধান কোথায়?
সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ, সবার জন্য সমান এবং সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বাইকারদের প্রত্যাশা, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইন বহাল থাকুক, তবে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করে ডিজিটাল সেবা বাড়ানো হোক। পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে হয়রানি বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্তও নিশ্চিত করা হোক।
আইন থাকবে, শৃঙ্খলাও থাকবে। তবে সেই আইন যেন জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ রাইডারদের জন্য ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত হয়, সেটিই এখন সময়ের দাবি।